বাংলাদেশের শিশু সার্জারি ক্ষেত্রে আধুনিকতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করা অগ্রগামী চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এসএম খালিদ মাহমুদ শাকিল। চিকিৎসা বিজ্ঞানকে মানবসেবার সঙ্গে যুক্ত করে তিনি প্রমাণ করেছেন, একজন ডাক্তারের দায়িত্ব শুধু রোগ নিরাময়ে সীমাবদ্ধ নয়—সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নেও তাঁর ভূমিকা অপরিহার্য। দক্ষ সার্জন, নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক এবং গবেষণায় তাঁর কর্মযাত্রা দেশের স্বাস্থ্যখাতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
২০০৪ সালে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে যোগদানের মাধ্যমে ডা. শাকিলের পথচলা শুরু। শিশুদের জটিল সার্জারি, নবজাতকের সংকটাপন্ন অবস্থা এবং প্রযুক্তিনির্ভর কৌশলে তিনি দ্রুত নির্ভরযোগ্য নাম হয়ে ওঠেন। ২০১৬ সালে পেডিয়াট্রিক সার্জারিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের পর উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য ভারত (২০১৭) এবং ইতালিতে (২০১৯) ফেলোশিপ সম্পন্ন করেন। এর ফলে নতুন গবেষণা, প্রোটোকল এবং থেরাপি দেশীয় শিশু সার্জারিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনে। ২০২৩ সালে রিজেনারেটিভ মেডিসিনে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ নিয়ে স্টেম সেল প্রযুক্তিকে শিশু চিকিৎসায় সম্ভাবনাময় করে তোলেন। ২০২৪ সালে শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক পদে নিয়োগ তাঁর দীর্ঘ অবদানের স্বীকৃতি।
দেশের প্রথম পেডিয়াট্রিক সার্জিক্যাল আইসিইউ প্রতিষ্ঠায় ডা. শাকিলের নেতৃত্ব অগ্রণী। নবজাতক ও শিশুদের সংকটাপন্ন চিকিৎসায় এটি জীবনরেখা হিসেবে কাজ করছে। উন্নত মনিটরিং, অ্যানেসথেসিয়া সেফটি এবং বিশেষ যন্ত্রপাতি সংযোজনে তিনি পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। জটিল সার্জারিতে ল্যাপারোস্কপি, থোরাকোস্কপি এবং মাইক্রো-সার্জারি কৌশল প্রয়োগ করে ঝুঁকি কমিয়ে ফলাফল উন্নত করছেন। শিক্ষার্থীদের জন্য ওয়ার্কশপ, স্কিল ল্যাব, কনফারেন্স এবং ক্লিনিক্যাল ডিসকাশন নিয়মিত পরিচালনা করেন—ভবিষ্যতের চিকিৎসকদের ভিত্তি মজবুত করতে।
চিকিৎসার পাশাপাশি সমাজসেবায় ডা. শাকিলের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসচেতনতা, পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু সচেতনতা, নারী-শিশু কল্যাণ এবং তরুণদের নৈতিক উন্নয়নে বহু কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন। চলতি বছরের মার্চ-এপ্রিলে ঝালকাঠিতে তাঁর নেতৃত্বে দুটি বৃহৎ ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। জেলাজুড়ে আগত হাজারোধিক রোগী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সেবা পান। চোখের অপারেশন, চশমা ও ওষুধ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। এ ক্যাম্পগুলো প্রমাণ করে, চিকিৎসা হাসপাতালের সীমানায় আবদ্ধ নয়—মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হবে। যা বছরজুড়ে অব্যাহত থাকবে!
২০১৯ থেকে স্টেম সেল থেরাপির গবেষণা ও প্রয়োগে নিয়োজিত ডা. শাকিল দেশে শিশুদের ওপর এর প্রথম প্রয়োগের পথিকৃৎ। অটিজম, মাসক্যুলার ডিস্ট্রফি, সেরিব্রাল পালসি, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, বারবার হাড় ভাঙা ও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতে প্রচলিত চিকিৎসা ব্যর্থ হলে এ থেরাপি আলো দেখাচ্ছে। অনেক পরিবার নতুন স্বাভাবিক জীবনে ফিরছে।
সম্প্রতি সমাজ পরিবর্তনে তরুণদের শক্তি বিশ্বাস করে গড়ে উঠেছে ‘We Can Change’ (WCC) সংগঠন। “নিজেকে পরিবর্তনের মাধ্যমেই সমাজ পরিবর্তন সম্ভব”—এ স্লোগান নিয়ে ঝালকাঠিতে বর্ণাঢ্য উদ্বোধন হয়। গান, কবিতা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনে অনুষ্ঠান উৎসবমুখর হয়। প্রশাসন, বিশিষ্টজন, শিক্ষক ও তরুণদের উপস্থিতিতে সংগঠনের যাত্রা শুরু। WCC নৈতিক বিকাশ, পরিবেশ রক্ষা, প্রযুক্তি জ্ঞান, দায়িত্ববোধ, নেতৃত্ব ও মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে ঝালকাঠির ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুনাগরিক গড়ে তুলবে। ঝালকাঠির তরুণ প্রজন্মকে খুব কাছ থেকে দেখে তিনি অভিভূত । আমরা যদি তাদের অনুভূতি বুঝতে পারি তবে তারা কোনও ব্যর্থতা ছাড়াই জাতিকে পুনর্গঠন করতে পারবে বলে অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। তিনি গভীরভাবে বিশ্বাস করেন যে, সততা, সহানুভূতি, ভালোবাসা, দক্ষতা ও নিজেকে পরিবর্তন এর মাধ্যমে হতে পারে সপ্নের সমাজ।
অধ্যাপক ডা. খালিদ মাহমুদ শাকিল চিকিৎসক, গবেষক, শিক্ষক এবং মানবসেবার প্রতীক। পেশাগত নিষ্ঠা ও মানবিকতার সমন্বয় তাঁকে অনন্য স্থান দিয়েছে—যা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা।
এসএম রেজাউল করিম
উন্নয়নকর্মী
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
সাফাত আল মামুন
প্রকাশক
ইব্রাহিম খলিল
নিউজ
Email: news@prokash.live
বিজ্ঞাপণ
Email: ads@prokash.live
©২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || প্রকাশ